রবার্ট ফিস্ক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রবার্ট ফিস্ক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৬

ট্রাম্প নন, পুতিনই খেলবেন

যা ধারণা করা হচ্ছিল, তা-ই হচ্ছে। ট্রাম্প ও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে খামোখা কিছু কথা বলা হচ্ছে। মুসলিম বিশ্ব ট্রাম্পের মতো মানুষের সঙ্গে কীভাবে কাজ করবে, যিনি মুসলমানদের ব্যাপারে ভীত। হ্যাঁ, তা ঠিক, ট্রাম্প এ রকমই একজন মানুষ। তিনি নিজের দেশ ও জনগণের জন্য অসম্মানজনক, কিন্তু তাঁরা এ ব্যক্তিকেই নির্বাচিত করেছেন।

তবে এ কথা বললে আমাদের ভয় একটু কমতে পারে। ব্যাপারটা হচ্ছে এই—মার্কিনদের বোকামি ও অযোগ্যতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মান এত কমে গেছে যে, তাদের ক্ষমতার ওপর আরব বিশ্বের বিশ্বাস খুব কম। আমি বরং সন্দেহ করি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি খুব কম গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সন্দেহ নেই, ট্রাম্প খুব শিগগির মধ্যপ্রাচ্যে হাজির হবেন। তিনি নির্ঘাত ইসরায়েলকে তোষামোদ করবেন আর বলবেন, যুক্তরাষ্ট্র সর্বোতভাবেই ইসরায়েলকে সমর্থন করে। উপসাগরীয় অঞ্চলের ধনী অভিজাত ব্যক্তিদের আশ্বস্ত করবেন, তাঁদের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হয়েছে
মার্কিনদের শাসনব্যবস্থা কখন ধসে পড়তে শুরু করল, আমি ঠিক নিশ্চিত নই। ১৯৫৬ সালে আইজেনহাওয়ার যখন ব্রিটিশ, ফরাসি ও ইসরায়েলিদের সুয়েজ খাল থেকে বেরিয়ে যেতে বলেছিলেন, তখন তাদের ক্ষমতা একদম তুঙ্গেই ছিল। একজন নরওয়েজীয় কূটনীতিকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। তিনি আমাকে বলেছিলেন, রোনাল্ড রিগ্যানের সঙ্গে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন সম্পর্কে কথা বলতে গেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট মার্কিন অর্থনীতিবিষয়ক একটি লেখা থেকে উদ্ধৃতি দিতে শুরু করেন। আবার বিল ক্লিনটনের মিডল ইস্ট ‘পিস’ও হালে তেমন একটা পানি পায়নি।
আমি ধারণা করি, জর্জ ডব্লিউ বুশই আফগানিস্তানে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যদিও কোনো আফগান যুক্তরাষ্ট্রে হামলা করেননি। তিনি সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরাকে শিয়াদের ক্ষমতায় বসিয়েছেন। এতে সৌদি আরব অনেকটাই বিরক্ত হয়েছিল। আবার সৌদি আরব (৯/১১-এর ১৯ জন হামলাকারীর মধ্যে ১৫ জনই সৌদি নাগরিক) ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিন্দুমাত্র উদ্বেগও নেই বললে চলে।
আর ওবামা তো প্রতি ক্ষেত্রেই মধ্যপ্রাচ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। কায়রোতে তিনি ইসলামের সঙ্গে সদ্ভাব পাতাতে গেলেন; তাঁর নোবেল পুরস্কার, সিরিয়ায় ‘সীমা’—এসবই বালুতে হারিয়ে গেল, যখন রুশরা তাঁকে উদ্ধার করতে এলেন। এখন তো ভ্লাদিমির পুতিনের মিগসহ অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র ভয়ংকর সিরীয় যুদ্ধের মধ্যে শান্তি স্থাপন করছে। আর যেসব দেশে মানবাধিকারের বালাই নেই, সেখানে পুতিনের সম্পর্কে তেমন কোনো গুঞ্জনও নেই। ফিল্ড মার্শাল আল-সিসি তো পুতিনকে কায়রোর অপেরায় নিয়ে গিয়েছিলেন।
এটাই কথা। পুতিন কথা বলেন, আবার কাজও করেন। তিনি খুব ভালো বক্তা নন। আর তাঁর আচরণ যতটা ব্যবসায়ীর মতো, ততটা রাজনীতিকের মতো নয়। ট্রাম্প কথা বলেন, তা ঠিক। কিন্তু তিনি কি কাজ করতে পারেন? ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিনের অদ্ভুত সম্পর্কের ব্যাপারটা দূরে রাখতে চাইলে রাখতে পারেন। কিন্তু ট্রাম্প মনে করেন পুতিনের সঙ্গে তাঁর সে রকম সম্পর্ক আছে।
কথা হচ্ছে, ট্রাম্পকে পুতিনের কথা বুঝতে হবে, এর উল্টোটা নয়। বস্তুত, আমি মনে করি, ট্রাম্পের জমানায় আরব ও ইসরায়েলিরা পুতিনের কথা বেশি করে শুনবেন। বিষয়টা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্য এখন আর যুক্তরাষ্ট্রকে নির্ভরশীল মনে করে না, যার অবস্থান প্রায়ই পরিবর্তিত হয়। ঠিক যেমন ১৯৩০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র ছিল।
এমনকি পুতিন সিরিয়ায় বোমারু বিমান পাঠানোর আগ পর্যন্ত আইএসের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলাও ততটা কার্যকর হয়নি। যে সময় অনেক আরবই ভাবছিলেন, ওয়াশিংটন কেন এদের ধ্বংস করতে পারছে না। এবার আরব বসন্তের প্রসঙ্গে আসি। তখনো আমরা দেখেছি, বারাক ওবামা ও তাঁর অসহায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সব তালগোল পাকিয়ে ফেলছেন। তাঁরা এটা বুঝতেই পারেননি যে এই বিশাল গণজাগরণ বাস্তব ব্যাপার, আর স্বৈরশাসকদের যেতে হবে (অন্তত অধিকাংশকেই যেতে হয়েছে)। ২০১১ সালে কায়রোর প্রসঙ্গে ওবামা যে সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন তা হলো, মিসরের রাজধানী থেকে মার্কিন নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া।
এ কথা বলা সহজ, একজন ইসলামভীত মানুষের মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ায় আরবরা মর্মাহত। কিন্তু তাঁরা কি ভেবেছেন, ওবামা ও তাঁর পূর্বসূরিদের কারও মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে বিশেষ অনুরক্ততা ছিল কি না? তা সে ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান যা-ই হোক না কেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক নীতির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এ রকম: একের পর এক যুদ্ধ, বিমান হামলা ও পলায়নের এক দৃষ্টি আকর্ষক পুনরাবৃত্তি। রাশিয়ার নীতিও ধ্বংসাত্মক ছিল। কিন্তু সোভিয়েত-উত্তর যুগে দেশটি হাত-পা গুটিয়ে নেয়, সিরিয়ায় পুতিনের সেনা পাঠানোর আগে পর্যন্ত।
সন্দেহ নেই, ট্রাম্প খুব শিগগির মধ্যপ্রাচ্যে হাজির হবেন। তিনি নির্ঘাত ইসরায়েলকে তোষামোদ করবেন আর বলবেন, যুক্তরাষ্ট্র সর্বোতভাবেই ইসরায়েলকে সমর্থন করে। উপসাগরীয় অঞ্চলের ধনী অভিজাত ব্যক্তিদের আশ্বস্ত করবেন, তাঁদের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পুতিন–সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সিরিয়া সম্পর্কে তিনি আকর্ষণীয় কথা বলবেন। কিন্তু সম্ভবত তিনি এ অঞ্চলকে ভৃত্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ভাইস প্রেসিডেন্টদের হাতে ছেড়ে দেবেন, যাঁদের ভাবতে হবে—এই ব্যক্তি আসলে কী ভাবেন। অবশ্যই, আমাদের বর্তমান অবস্থাও এ রকম। ট্রাম্প কী মনে করেন? অথবা আরও সুনির্দিষ্টভাবে বলা যায়, তিনি কি আসলেই কিছু মনে করেন (চিন্তা করেন)?

অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন, দ্য ইনডিপেনডেন্ট থেকে নেওয়া
রবার্ট ফিস্ক: দ্য ইনডিপেনডেন্টের মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি।

রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১১

ব্যাংকারেরা পাশ্চাত্যের একনায়ক

আমি কখনো আবর্জনাতুল্য এত আজেবাজে কথা ও অর্থহীন বক্তব্য পড়িনি, যতটা পড়ছি বিশ্বের অর্থনৈতিক সঙ্কট প্রসঙ্গে। আমার ক্ষোভকে প্রকাশ করতে হচ্ছে। এ দিকে পুঁজিবাদের পতনের ক্ষেত্রে যে নতুন চাপ সৃষ্টি হয়েছে, এটাকে এমনকি মধ্যপ্রাচ্যও কাটিয়ে উঠতে পারবে না। এর কারণ, ওই সব প্রতিষ্ঠান এবং হার্ভার্ডের ‘বিশেষজ্ঞ’দের প্রতি সম্পূর্ণ নির্ভেজাল আনুগত্য। অথচ এই প্রতিষ্ঠানগুলো আর বিশেষজ্ঞরাই অর্থনীতির এই বিপর্যয়রূপী অপরাধ ঘটিয়েছেন।
‘আরব বসন্ত’ কথাটা দিয়েই শুরু করা যাক। আরব বা মুসলমানদের যে মহান জাগরণ মধ্যপ্রাচ্যকে নাড়া দিচ্ছে, তার উদ্ভট বিকৃত অভিধা এই পরিভাষা। সামাজিক প্রতিবাদের কিঞ্চিৎ ঘটছে পাশ্চাত্যের রাজধানীগুলোতেও। পাশ্চাত্যে গরিব আর বঞ্চিতরা কিভাবে ‘আরব বসন্ত’ থেকে প্রেরণা পেয়েছে; কেমন করে আমেরিকা, কানাডা, ব্রিটেন, স্পেন আর গ্রিসের বিক্ষোভকারীরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছে মিসর, তিউনিসিয়া এবং একটা মাত্রা পর্যন্ত লিবিয়ার ব্যাপক গণ-আন্দোলন দ্বারা এসব রিপোর্টে আমরা সয়লাব হয়ে গেছি। কিন' এ সব কিছু পাগলের প্রলাপ।
যার সাথে এ সব কিছুর তুলনা চলে, তা এড়িয়ে গেছেন পশ্চিমা সাংবাদিকেরা। তারা আরব জগতের একনায়কবিরোধী গণবিদ্রোহের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অথচ পাশ্চাত্যের ‘গণতান্ত্রিক’ সরকারগুলোর বিরুদ্ধে যে আন্দোলন চলছে, তাকে অবজ্ঞা ও অবমূল্যায়ন করার জন্য তারা কতই না অসি'র হয়ে পড়েছেন। তারা আবার এমন ধারণা দিতে চান যে, আরব বিশ্বে যা ঘটেছে, হুজুগের সে পরিবর্তন টেকসই না-ও হতে পারে। কিন' বাস্তবতা ভিন্ন। আরব জনগণ প্রথমে হাজারে হাজারে, এরপর লাখে লাখে নেমে এসেছে নিজ নিজ দেশের রাজধানীর রাজপথে। এর পেছনে কারণ ছিল, তারা মর্যাদাপূর্ণ জীবন চেয়েছে এবং তারা সেসব একনায়কের পরিবারতন্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করেছে, যারা নিজেদের দেশের মালিক মনে করত। মোবারক, বেন আলী, গাদ্দাফি, জর্ডানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের রাজা ও আমিররা এবং আসাদ- সবার বিশ্বাস, গোটা দেশ তাদের একান্ত সম্পত্তি। মিসর যেন ছিল মোবারক অ্যান্ড কোম্পানি, তিউনিসিয়া বেন আলী অ্যান্ড কোং এবং লিবিয়া গাদ্দাফি ইনকরপোরেটেডের। একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগ্রামে আরবরা জীবন দিয়েছেন এটা প্রমাণ করতে যে, তাদের দেশ জনগণের।
এখানেই পাশ্চাত্যের বর্তমান পরিসি'তির মিল আরব বিশ্বের সাথে। সেখানে আন্দোলন চলছে ‘বিগ বিজনেস’ আর সরকারের বিরুদ্ধে। এই আন্দোলন অবশ্যই যুক্তিযুক্ত। তবে পাশ্চাত্যের মানুষ কিছুটা দেরিতে বুঝতে পেরেছে যে, তারা দশকের পর দশক পেয়েছে ভুয়া গণতন্ত্র। তারা দায়িত্ববোধের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোট দিয়েছে। অথচ দলগুলো তাদের গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট আর জনগণের ক্ষমতা ব্যাংক, ব্যবসায়ী ও রেটিং অ্যাজেন্সির হাতে তুলে দিয়েছে। আর এই ‘ত্রয়ী’র শক্তি জুগিয়েছে আমেরিকার সেরা ভার্সিটিগুলো এবং ‘থিঙ্কট্যাঙ্ক’-এর নোংরা ও অসৎ কোটারি। এরা এই কল্পকথা প্রচার করছে যে, পাশ্চাত্যের চলমান সঙ্কট বিশ্বায়নের সঙ্কট মাত্র এবং এটা ভোটারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক কোনো আর্থিক অপকৌশল নয়।
ব্যাংক আর রেটিং অ্যাজেন্সি পাশ্চাত্যের একনায়কে পরিণত হয়েছে। মোবারক ও বেন আলীদের মতো এই ব্যাংকগুলো বিশ্বাস করে এসেছে, এখনো করছে যে, তারাই দেশের মালিক-মোখতার। অথর্ব সরকারের যোগসাজশে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এরা ক্ষমতা অর্জন করে। তাই এই নির্বাচন আরব দেশগুলোর অতীত নির্বাচনগুলোর মতোই ভুয়া। নির্বাচনের নামে আরবদের বাধ্য করা হতো, যাতে তারা দলে দলে গিয়ে তাদের ‘জাতীয় সম্পদের মালিক’দের তেলমর্দন করে আসে। গোল্ডম্যান স্যাক্স এবং রয়েল ব্যাংক অব স্কটল্যান্ড যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মোবারক বা বেন আলীর রূপ নিয়েছে। উভয়েই তাদের ভয়ঙ্কর বড়কর্তাদের জন্য বানোয়াট পুরস্কার ও বোনাসের নামে জনগণের সম্পদ গিলে খেয়েছে। আর এটা এত বেশি পরিমাণে ঘটেছে, যা আরবের লোভী একনায়কেরা পর্যন্ত কল্পনাও করতে পারেননি।
মার্কিন ব্যাংকগুলো আর রেটিং অ্যাজেন্সিগুলোর মাঝে ফারাক নেই। ব্যাংক, অ্যাজেন্সি আর মার্কিন সরকারের কর্মচারীরা এই তিনটি কর্মক্ষেত্রে অবিরাম আসা-যাওয়া করে থাকে। রেটিং জগতের ‘বালক’রা বাজারের ওপর বিষাক্ত প্রভাব ফেলে ইউরোপের জনগণকে তাদের নখরে আবদ্ধ করছে। এই হুমকি দিয়ে করা এটা হচ্ছে যে, কথা না শুনলে ট্রিপল ‘এ’ রেটিং নামিয়ে দেয়া কিংবা প্রত্যাহার করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে আর্থিক ধস নামার আগে তারা অপরাধীদের ভূষিত করেছিল ‘এএএ’ রেটিং দিয়ে। এসব প্রাণী কারা, যাদের রেটিং অ্যাজেন্সিগুলো ফরাসিদের মনে এত ভয় ঢুকিয়ে দিচ্ছে, যা ১৯৪০ সালে (নাৎসি সেনাপতি) রোমেলও ফ্রান্সের মধ্যে সঞ্চার করতে পারেনি।
কিন' ওয়াল স্ট্রিটে আমার যেসব সাংবাদিক সাথী আছেন, তারা নীরব কেন? বিবিসি, সিএনএন, এমনকি আলজাজিরা পর্যন্ত কেন এসব অপরাধীকে মনে করছে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে উঠে যাওয়া ক্ষমতাবান প্রতিষ্ঠান? এসব দুমুখো লোকের কেলেঙ্কারির ব্যাপারে কোনো তদন্ত নেই কেন? এতে মনে পড়ে যায় যে বিষয়টি, তা হলো- বেশির ভাগ মার্কিন সাংবাদিক ইসরাইলের প্রত্যক্ষ সমালোচনা ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যের খবর পরিবেশন করে থাকেন। সেখানকার লিকুদ পার্টির সমর্থক লবি তাদের প্রলুব্ধ করে এটা বলতে যে, ইসরাইলি-ফিলিস্তিনি সঙ্ঘাতে আমেরিকার শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়াসের ওপর আস'া রাখা যায়। এ কারণে পছন্দের মানুষ ‘মধ্যপন'ী’ এবং অপছন্দের হলে ‘সন্ত্রাসবাদী’ আখ্যা দেয়া হয়। আরবরা এত দিনে এসব বাজে কথা ছুড়ে ফেলতে শুরু করেছে। যখন ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিবাদকারীরা একই কাজ করে, তখন তাদের বলা হয় ‘নৈরাজ্যবাদী।’ আমেরিকার এসব সামাজিক ‘সন্ত্রাসী’র এত বড় সাহস যে, তারা হোসনি মোবারকের মতো বার্ন্যানকে ও গেইথনারদের বিচার দাবি করছে। পাশ্চাত্যে আমরা এবং সরকারগুলো আমাদের একনায়কদের বানিয়েছি। আরবরা তাদের একনায়কদের ধরেছে, কিন' আমরা আমাদের একনায়কগুলোকে ছোঁয়ার সাধ্যও নেই।
দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের সৌজন্যে
ভাষান্তর-মীযানুল করীম