sunder bon লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
sunder bon লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১৬ মার্চ, ২০১৬

‘কয়লা বিদ্যুতে জীবিকা হারায়, নষ্ট হয় পরিবেশ’

‘কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ। এর ফলে সুন্দরবনের সংকটাপন্ন প্রতিবেশ আরো হুমকির মুখে পড়বে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে ভারতের কিছু এলাকার জনসাধারণ এরইমধ্যে জীবিকা হারিয়েছে, পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এ কারণে আদালত অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।’ 

আজ মঙ্গলবার খুলনা প্রেসক্লাবের শহীদ হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে আয়োজিত ‘কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও উপকূলীয় প্রতিবেশ’ শীর্ষক আলোচনাসভায় ভারত থেকে আসা প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এ কথা বলেন। 

সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দল, উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), সর্বভারতীয় বনকর্মী ইউনিয়ন, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্চ (সিইপিআর), ভারত বিজ্ঞান যাত্রা, দিল্লি সলিডারিটি গ্রুপ, মাচ্ছিমার অধিকার সংঘর্ষ সংগঠন (ম্যাস) ও জাতীয় মৎস্যজীবী ফোরাম সম্মিলিতভাবে এ আলোচনাসভার আয়োজন করে।  

সভায় ভারতীয় প্রতিনিধিরা দাবি করেন, জনগণের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা এবং যৌথ আন্দোলন গড়ে তোলা উচিত। 

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দলের আহ্বায়ক গৌরাঙ্গ নন্দীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন প্রতিনিধিদলের সদস্য ও সর্বভারতীয় বনকর্মী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অশোক চৌধুরী, উপসম্পাদক রোমা মালিক, ভারত জন-বিজ্ঞান যাত্রার আহ্বায়ক সৌম্য দত্ত, কেরালার জাতীয় মৎস্যজীবী ফোরামের ম্যাগলিন পিটার, গুজরাটের মাচ্ছিমার অধিকার সংঘর্ষ সংগঠনের (ম্যাস) ভারত প্যাটেল, উত্তর প্রদেশের উমেশ বাবু, উড়িষ্যার শীলা মহাপাত্র, কেরালার মাজু ভারগেসে, মধ্য প্রদেশের রাজেশ কুমার ও মহারাষ্ট্রের আয়েশা ডি সুজা। আলোচনা সভার সঞ্চালক ছিলেন উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোটের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ম্যাসের ভারত প্যাটেল বলেন, ‘গুজরাটের কচ্ছ উপসাগরের তীরে প্রথমে মাত্র ৩০০ মেগাওয়াটের একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উত্তপ্ত পানির কারণে উপকূল মাছ শূন্য হয়ে যায়। এর ফলে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ তাদের জীবিকা হারিয়েছে। অপরদিকে কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ২০০ মানুষের। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা সরবরাহের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ বন্দর। বন্দরের জাহাজের শব্দ ও দুষণে নষ্ট হয়ে গেছে এলাকার পরিবেশ।’

ভারত প্যাটেল আরো বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা শিল্প-কারখানার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আরো বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ৩০০ একর জায়গা নিয়ে শুরু করলেও এখন ১২০ কিলোমিটারব্যাপী দুষণকারী কারখানা আর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা।’ 

কেরালার মৎস্যজীবী ফোরামের ম্যাগলিন পিটার বলেন, ‘আদানী ও আম্বানি গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে হাজার হাজার জেলে তাদের জীবিকা হারিয়েছে। অথচ তাদের কয়েক লাখ কর্মদিনের চাকরির লোভ দেখানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দেখা গেল, ১০ হাজার মানুষের দুই মাসের কর্মসংস্থান হয়েছে।

সর্বভারতীয় বনকর্মী ইউনিয়নের অশোক চৌধুরী বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় সংস্থা হিসেবে ভারতের জাতীয় তাপবিদ্যুৎ কোম্পানির (এনটিপিসি) দায়িত্ব হলো নিজ দেশের জনসাধারণকে বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদান করা। অন্য দেশে মুনাফার জন্য কোম্পানি তৈরি করার কোনো অধিকার এ সংস্থার নেই।’ 

ভারত জন-বিজ্ঞান যাত্রার সৌম্য দত্ত বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের একটাই সুন্দরবন। এর কোনো একটি অংশে নেতিবাচক প্রভাব পড়লে অপর অংশও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ভারতীয় কোম্পানি যদি সেই ক্ষতির জন্য দায়ী হয় তাহলে উদ্যোগ নিতে হবে যৌথভাবে। সেখানে ভারতীয় জনগণ নিজ কোম্পানিকে প্রতিরোধ করার জন্য কাজ করবে, বাংলাদেশ কাজ করবে নিজ প্রতিবেশ রক্ষার জন্য।’ 

বনকর্মী ইউনিয়নের রোমা মালিক বলেন, ‘সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট করে মুষ্টিমেয় ধনী কোম্পানি মুনাফার পাহাড় গড়ছে। এর বিরুদ্ধে দক্ষিণ এশীয় জনসাধারণের সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে। তাই জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।’

আলোচনা সভায় আরো আলোচনা করেন, এনটিভির মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, বেলার মাহফুজুর রহমান মুকুল, মাছরাঙা টেলিভিশনের মোস্তফা জামাল পপলু, ওয়াটারকিপার্সের মানবেন্দ্র দেব, ছাত্র প্রতিনিধি কানাই মণ্ডল, দীপ্ত টেলিভিশনের ফারজানা ববি, দৈনিক পূর্বাঞ্চলের এইচএম আলাউদ্দীন, সাংবাদিক মাকসুদুর রহমান, এসএ টেলিভিশনের সুনীল দাস, গাজী শান্তনু কায়সার, একুশে টেলিভিশনের মহেন্দ্র নাথ সেন, হিউম্যানিটিওয়াচের শরিফুল ইসলাম সেলিম, শিশুস্বর্গ খেলাঘর আসরের মাইনুল ইসলাম সাকিব, দৈনিক যুগান্তরের হেদায়েৎ হোসেন, বাংলানিউজের মাহবুবুর রহমান মুন্না, দৈনিক তথ্যের নূর হাসান জনি, ক্লিনের রেজাউল করিম জিতু, সুবর্ণা ইসলাম দিশা প্রমুখ। 

সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১১

সুন্দরবনের সর্বনাশ


বাগেরহাটের পশুর নদের তীরে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হলে এর বিষাক্ত কালো ধোঁয়া আচ্ছন্ন করে ফেলবে সুন্দরবন এলাকার নির্মল আকাশ। চিমনি দিয়ে উগরানো ছাই বিস্তীর্ণ এলাকার বাতাসে ভেসে ঘটাবে মারাত্মক দূষণ। কারখানাটির কার্বন, পারদ, সিসা, আর্সেনিকসহ নানা বর্জ্য সরাসরি দূষিত করবে নদীনালার পানিকে। ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাবে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবনের সব সৌন্দর্য। একে একে মারা পড়বে সব গাছপালা। বিশ্ববিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বনের সব পশুপাখি, জলজ প্রাণীও শেষ হয়ে যাবে।
ভারত-বাংলাদেশ যৌথ অর্থায়নে বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক দুই হাজার ৬৪০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হলে সুন্দরবনে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটবে বলে আশঙ্কা করছে পরিবেশবাদী কয়েকটি সংগঠন।
সংগঠনগুলো বলছে, সরকার পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে সুন্দরবনের মাত্র ৯ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ায় বনের গাছগাছালি, পশুপাখি, মাছসহ সব ধরনের জীব-বৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়বে। বিদ্যুৎকেন্দ্রর গরম পানি, কয়লা পোড়ানো ছাই ও কালো ধোঁয়া সুন্দরবনের সব জীব-বৈচিত্র্য ধ্বংস করে ফেলবে।
অন্যদিকে সরকার বলছে, সব ধরনের পরিবেশগত দিক রক্ষা করেই বাগেরহাটে ওই তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এতে সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র্য ক্ষতি হওয়ার কোনো কারণ নেই।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নেতা ড. আবদুল মতিন কালের কণ্ঠকে বলেন, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীব-বৈচিত্র্য বাংলাদেশের একটি গর্ব। কিন্তু সরকার সুন্দরবনের পরিবেশগত দিক বিবেচনা না করে সেখানে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করলে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বনের ওপর। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হলে সুন্দরবনের গাছপালাসহ সব ধরনের জীব-বৈচিত্র্য ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। ড. মতিন বলেন, 'আমরাও চাই, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপিত হোক।
কিন্তু পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে এটি সুন্দরবনের মাত্র ৯ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বসানো হচ্ছে। আমরা চাই, আইন মেনে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সুন্দরবনের অন্তত ১৫ কিলোমিটার দূরে স্থাপন করা হোক। পাশাপাশি আমরা দাবি করছি, ইউনেস্কোঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী সুন্দরবনকে প্রাধান্য দিয়ে সরকার এই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করুক।'
সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস মুভমেন্টও সম্প্রতি এক গোলটেবিল আলোচনায় অনুরূপ দাবি জানিয়েছে।
এদিকে বাপার এক সরেজমিন সমীক্ষা প্রতিবেদনে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বলা হয়, ৫০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ফলে অন্তত ৩৭ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড, ১০ হাজার টন সালফার ডাই-অক্সাইড, ১০ হাজার ২০০ টন নাইট্রোজেন অক্সাইড, ২২০ টন হাইড্রো কার্বন, ৭২০ টন কার্বন মনো-অক্সাইড, ১৭০ পাউন্ড পারদ, ২২৫ পাউন্ড আর্সেনিক, ১১৪ পাউন্ড সিসাসহ অন্যান্য বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এ ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিপুল পরিমাণ ছাই ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ বাতাস, ভূ-পৃষ্ঠ ও ভূ-গর্ভস্থ পানি দূষণ করে। এসব দিক বিবেচনায় রেখে বাগেরহাট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উপযুক্ত শোধনাগার না থাকলে তা বৃহত্তর সুন্দরবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মংলা বন্দর দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানির ক্ষেত্রেও পরিবেশগত দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। সরাসরি পশুর নদে তরল বর্জ্য ফেলা হলে রাতারাতি চিংড়ি ও শুশুকসহ সব ধরনের জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটবে। দীর্ঘমেয়াদে মারা যাবে সুন্দরবনের গাছগাছালি ও বাঘ, হরিণসহ সব ধরনের পশুপাখি।
 
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব আবুল কালাম আজাদ পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রস্তাবিত কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র আদৌ পরিবেশগত কোনো বিপর্যয় ঘটাবে না। পরিবেশগত আইন মেনে যথাযথভাবেই ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, 'বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বর্জ্য সঠিকভাবে শোধন করা হবে। এটি সুন্দরবনের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।'
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনোয়ারুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, বাগেরহাটে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় অনুমতি চেয়েছে। কিন্তু এ জন্য এখনো তাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, 'মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিস্তারিত সমীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলে সব কিছু বিবেচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।'
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ওই প্রকল্পের কারণে সুন্দরবনে আদৌ কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে কি না তা নিয়ে একাধিক আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বরাবরই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশ্বস্ত করা হয়।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও ভারতের জাতীয় তাপ বিদ্যুৎ করপোরেশন (এনটিপিসি) যৌথভাবে এই প্রকল্প পরিচালনা করছে। গত জুলাই মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার লুবাছড়ায়। এ জন্য অধিগ্রহণ করা হবে প্রায় এক হাজার ৮০০ একর জমি। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য যে জমি অধিগ্রহণ করা হবে, এর বেশির ভাগই ব্যক্তিমালিকাধীন চিংড়ি ঘের, কৃষিজমি ও মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় গরান বনভূমি সুন্দরবন। এই বনভূমি বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত। ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ছয় হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৭ সালে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে সুন্দরবনকে স্বীকৃতি দেয়। দুর্লভ রয়েল বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও নানা জাতের পাখি, চিত্রা ও মায়া হরিণ, কুমির, সাপ, শুশুক, কচ্ছপসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত এই বনভূমি। জরিপ অনুয়ায়ী এই বনে বাংলাদেশ অংশে প্রায় ৫০০ বাঘ ও ৩০ হাজার চিত্রা হরিণ রয়েছে।