Alamgir alam / Health লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Alamgir alam / Health লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১১ জানুয়ারি, ২০১৭

লো প্রেশার হলে কী করবেন?

নিম্ন রক্তচাপ হলে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে।রক্তচাপ কমে যাওয়া, লো প্রেশার, লো ব্লাড প্রেশার কিংবা নিম্ন রক্তচাপ নিয়ে অনেকেই চিন্তিত থাকেন। নিম্ন রক্তচাপ নিয়ে অযথা বা অতিরিক্ত চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কেননা এটা উচ্চ রক্তচাপের চেয়ে কম ক্ষতিকর ও স্বল্পমেয়াদি সমস্যা। অনেকেই মনে করেন দুর্বল স্বাস্থ্য যাঁদের, তাঁরা নিম্ন রক্তচাপে ভুগে থাকেন। এটা সত্য নয়। স্থূল মানুষেরও নিম্ন রক্তচাপ বা লো প্রেশার থাকতে পারে।

সাধারণত সিস্টোলিক রক্তচাপ ৯০ মি.মি. মার্কারি ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৬০ মি.মি. মার্কারির নিচে হলে তাকে নিম্ন রক্তচাপ বলা হয়। প্রেশার যদি খুব বেশি নেমে যায় তাহলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃৎপিণ্ডে সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে না। ফলে অসুস্থতা দেখা দেয়। তাই প্রেশার লো হলে বাড়িতেই প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। আমাদের শরীরের জন্য উচ্চ রক্তচাপের মতো নিম্ন রক্তচাপ অর্থাৎ লো ব্লাড প্রেশারও ক্ষতিকর। অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা থেকে লো ব্লাড প্রেশার হতে পারে।
নিম্ন রক্তচাপের কারণ
* কোনো কারণে পানিশূন্যতা হওয়া।
* ডায়রিয়া বা অত্যধিক বমি হওয়া।
* খাবার ঠিকমতো বা সময়মতো না খাওয়া।
* ম্যাল অ্যাবসরবশন বা হজমে দুর্বলতা।
* কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত থাকা।
* শরীরে হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতা।
* রক্তশূন্যতা।
শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বা দুর্ঘটনার ফলে রক্তপাত ঘটলে এবং অপুষ্টিজনিত কারণে লো ব্লাড প্রেশার দেখা দিতে পারে। গর্ভবতী মায়েদের গর্ভের প্রথম ছয় মাস হরমোনের প্রভাবে লো প্রেশার হতে পারে।
নিম্ন রক্তচাপের লক্ষণ
মাথা ঘোরানো বা মাথা হালকা অনুভূত হওয়া, মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বসা বা শোয়া থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতা, চোখে অন্ধকার দেখা বা সরষে ফুলের মতো দেখা বা চোখে ঝাপসা দেখা, শারীরিক দুর্বলতা এবং মানসিক অবসাদগ্রস্ততা, কোনো কিছুতে মনোযোগ দিতে না পারা, ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া বা হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, খুব বেশি তৃষ্ণা অনুভূত হওয়া, অস্বাভাবিক দ্রুত হৃৎস্পন্দন, নাড়ি বা পালসের গতি বেড়ে গেলে বুঝতে হবে আপনি লো ব্লাড প্রেশারে আক্রান্ত হয়েছেন।

লো নাকি হাই প্রেশার—কোনটি বেশি খারাপ?
দুটোই খারাপ, তবে যখন প্রশ্ন করা হয় কোনটি বেশি খারাপ? নিঃসন্দেহে লো প্রেশার বা নিম্ন রক্তচাপ বেশি খারাপ। কারণ, হঠাৎ প্রেশার কমে গেলে বা কোনো কারণে প্রেশার কমে গেলে তাৎক্ষণিক শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন কিডনি, মস্তিষ্ক ইত্যাদি নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং তাৎক্ষণিক মৃত্যুও হতে পারে। এ জন্যই ডায়রিয়ায় পানিশূন্যতা রোধে শিরায় স্যালাইন দেওয়া হয়। তবে উচ্চ রক্তচাপও দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে। তাই উচ্চ রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।

চিকিৎসা
লো ব্লাড প্রেশার বা নিম্ন রক্তচাপের কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। নিম্ন রক্তচাপের উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। যদি শরীরে পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার কারণে নিম্ন রক্তচাপ হয়, তাহলে শুধু খাবার স্যালাইন মুখে খেলেই লো প্রেশার ঠিক হয়ে যায়। তবে যাঁদের দীর্ঘমেয়াদি নিম্ন রক্তচাপ আছে, তাঁদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নিম্ন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে করণীয়
  • নিম্ন রক্তচাপের ভুক্তভোগীরা অনেকক্ষণ একই স্থানে বসে বা শুয়ে থাকবেন না।
  • অনেকক্ষণ ধরে বসে বা শুয়ে থাকার পর ওঠার সময় সাবধানে ও ধীরে ধীরে উঠুন।
  • ঘন ঘন হালকা খাবার খান। বেশি সময় খালি পেটে থাকলে রক্তচাপ আরও কমে যেতে পারে।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
  • খাবার সময় পাতে এক চিমটি করে লবণ খেতে পারেন।
  • দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় গ্লুকোজ ও স্যালাইন রাখুন।

মঙ্গলবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৭

ডাক্তাররা কেন বেশি বেশি ওষুধ দেন?

ঢাকার একজন সাংবাদিক জাহিদ সোহাগ। বেশ কয়েক বছর আগে পিঠে ব্যথার জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে ছয়টি ওষুধ দেন একজন ডাক্তার।
এরপর আরেকজন ডাক্তার আরো ১১টি ওষুধ যোগ করলে মোট ১৭টি ওষুধ খেতে হয় জাহিদকে। প্রায় দুই মাস এই ওষুধগুলো খাওয়ার পরেও কোন উন্নতি হচ্ছিল না।
শেষ পর্যন্ত দেশের বাইরে একজন ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে তিনি সবগুলো ওষুধ বাদ দিয়ে শুধু একটি ওষুধ খেতে বলেন। সোহাগ বলছিলেন তার আগে এত বেশি ওষুধ প্রয়োগে তিনি মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
"আপনি যখন দীর্ঘ সময় ওষুধ খাবেন এবং রোগের নিরাময় না ঘটবে তখন একধরনের ডিপ্রেশন কাজ করে, আমি হয়তো অসুস্থ হয়ে পড়লাম। আমি হয়তো আর সুস্থ জীবনে ফিরছি না এরকম একটা আশঙ্কা মনের ভিতর তৈরি হয়।"
জাহিদ সোহাগের মতো এ ধরনের অজস্র উদাহরণ রয়েছে বাংলাদেশে। চিকিৎসা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, পৃথিবীজুড়ে রোগীদের অপ্রয়োজনীয় এবং দামী ওষুধ দেয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, অনেক সময় কম খরচে রোগ নিরাময়ের উপায় থাকলেও রোগীদের উপর বাড়তি খরচ চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।
ল্যানসেট জার্নালে যে গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে, বাংলাদেশেও সে চিত্র ব্যতিক্রম নয়।
অভিযোগ রয়েছে ডাক্তাররা তাদের প্রেসক্রিপশনে দামী ওষুধ যেমন লিখছেন তেমনি বেশি ওষুধও লিখছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক মনে করেন, ঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করতে না পারার কারণে ডাক্তাররা ওষুধের প্রয়োগ করেন বেশি।
তাছাড়া দামী ওষুধ হলেই যে তার মান ভালো হবে সেটিও মনে করেন না ফারুক।
তিনি বলেন, "আমি বেশি দামের উন্নত মানের কাঁচামাল ব্যবহার করি তাহলে আমার কিছুটা খরচ অবশ্যই বেশি পড়বে । আর যে কিছুই মানে না তার দাম একটু কম হবে এটা স্বাভাবিক তবে সবসময় যে বেশি দামের ওষুধ বেশি মানসম্পন্ন এটি নাও হতে পারে । এমনও হতে পারে যে একটি কোম্পানি ফাঁকি দিয়ে বেশি টাকা নিচ্ছে। এবং এটি দেখার দায়িত্ব হবে ওই দেশের সরকারী যে অফিস যারা এগুলো দেখার দায়িত্বে আছেন তাদের।"
ওষুধের বেশি প্রয়োগের বিষয়টিতে ডাক্তারদের সবসময় কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। অনেক ডাক্তার বেশি ওষুধ দেয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করেন। কিন্তু অনেকে আবার এই ধরনের প্রবণতার সমালোচনাও করেন।
ডাক্তারদের মধ্যেই কেউ কেউ বলছেন, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি দামী ওষুধ এবং বেশি ওষুধ লেখার জন্য অনেক ডাক্তারকে বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে।
বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডাক্তার রশিদ-ই-মাহবুব বলছেন, ওষুধের যে অপব্যবহার হয় সেটি অস্বীকার করার কোন উপাই নেই।
অধ্যাপক মাহবুব বলেন, "প্রথম কথা হচ্ছে, কতগুলো রোগ আছে যেগুলোর জন্য সারা জীবনই ওষুধ খেতে হবে। যেমন আজকে ডায়াবেটিস কথা বলেন, হাইপার টেনশনের (প্রেশার) কথা বলেন তারপরে ক্যান্সারের কথা বলেন এগুলো কিন্তু সারা জীবনই খেতে হয়। কিন্তু বেশিরভাগই যেটা অ্যাবিউজড (অপব্যবহার) হয় সেটা হচ্ছে ভিটামিন এবং এন্টিবায়োটিক। একটা এন্টিবায়োটিক দিয়ে অনেক সময় অনেক চিকিৎসক ঠিক এনশিওর করতে পারে না। তখন তারা কয়েকটা এন্টিবায়োটিক লিখে দেয়। এটাই কিন্তু বেশি ওষুধের প্রবণতা তৈরি করে।"
বিশ্লেষকেরা বলছেন, রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা নির্ভুল হলে বেশি ওষুধ প্রয়োগের প্রবণতা হয়তো কমে আসবে। তবে একই সাথে যেসব ডাক্তার বেশি ওষুধ প্রয়োগ করেন তাদেরও সচেতনতার পরিচয় দেয়া দরকার বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
সূত্র : বিবিসি

রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

ভারতে বাংলাদেশিদের চিকিৎসা ব্যয় ৫ হাজার কোটি টাকা বড় কারণ দেশের চিকিৎসাসেবায় আস্থার অভাব

বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থা ক্রম উন্নত হচ্ছে, তবে এর চেয়ে দ্রুতগতিতে উন্নত হচ্ছে প্রতিবেশী ভারতের চিকিৎসাব্যবস্থা। ফলে মেডিক্যাল ট্যুরিজমে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দেশ হয়ে ওঠা ভারতে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক রোগী যাচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা বলছে, দেশের চিকিৎসাসেবায় আস্থার অভাব ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে প্রতিবছর ছয় লাখ থেকে সাত লাখ লোক বাংলাদেশ থেকে শুধু ভারতে যায় চিকিৎসাসেবা নিতে। এতে বছরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয় প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

দেশের চিকিৎসাসেবা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজধানী উত্তরার বাসিন্দা তাবাসুম রিমা কালের কণ্ঠকে বলেন, “আমার হাত-পায়ে পানি আসে, পা ফুলে যায় এবং কোমরে ব্যথা। এসব সমস্যা নিয়ে গত পাঁচ বছর ধরে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেছি, বারবার ডাক্তারদের কাছে গেছি, কিন্তু কেউ কোনো সমস্যা চিহ্নিত করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে আমি গত জুলাই মাসে ভারতে একটি হাসপাতালে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই। ওই হাসপাতালে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানতে পারি আমার শরীরে ‘ভিটামিন-ডি’ ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে আমি অনেকটা সুস্থ। ”

খুলনার বাসিন্দা রোজি হোসেনের সঙ্গে দেখা হয় কলকাতার একটি হাসপাতালে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ডাক্তারদের কাছে গেলে শুধু প্রেসক্রিপশন ভর্তি টেস্ট এবং ওষুধ লিখে দেন,  কিন্তু কোনো ফল পাওয়া যায় না। এমনকি তিনি চিকিৎসকের লেখাপড়া নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন। দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি দারুণ অনাস্থার কথা জানান এই রোগী। তাঁর মতো মফিজুর রহমানও সম্প্রতি কেয়ারিং ইন্ডিয়া নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কলকাতায় যান ফিস্টুলা অপারেশন করতে। তিনি বলেন, দেশের ডাক্তারদের ওপর ভরসা করতে পারছি না, তাই এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছি।

এরপর অবাক হওয়ার মতো তথ্য দিলেন কলকাতা বেলভিউ ক্লিনিকের মেডিসিনের ডাক্তার ডা. রাহুল জৈন। তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, বাংলাদেশে তাঁর প্রায় ১০ হাজারের বেশি রোগী রয়েছে। বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থা অনেক উন্নত বলেও তিনি মনে করেন। তার পরও রোগীরা এখানে কেন আসে তা বুঝতে পারছেন না।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এবং ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী এবং সমসংস্কৃতির দেশ হওয়ায় প্রতিবছরই দেশটিতে রোগী যাওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। তিনি জানান, প্রতিবছর ১০ লাখ থেকে ১২ লাখ লোক ভারতে যায়। এর মধ্যে ২০ শতাংশ চিকিৎসা ভিসা নিয়ে যায়, তবে প্রকৃত অর্থে চিকিৎসার্থে যাওয়া লোকের সংখ্যা কমপক্ষে ৬০ শতাংশ হবে। অন্যরা টুরিস্ট ভিসা নিয়ে ভারত যায় বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, ভারতে চিকিৎসাসেবা বিশ্বমানের। বিশ্বের সব অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম তাদের হাতের নাগালে থাকায় সেখানকার চিকিৎসাব্যবস্থা অনেক উন্নত এবং একই সঙ্গে সাশ্রয়ী।

তবে বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান খান বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবা এখন যথেষ্ট উন্নত হয়েছে। এই সেবা এখন মফস্বল পর্যন্ত বিস্তৃত। যারা ভারতে যায় তারা মেডিক্যাল ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠানগুলোর প্ররোচনায় পড়ে যায়। কারণ চিকিৎসাসেবা এখন ব্যবসানির্ভর হয়ে পড়েছে। ওই সব দেশের প্রতিষ্ঠিত হাসাপাতালগুলোর বাংলাদেশে নিজস্ব অফিস আছে। তারা কমিশনের জন্য রোগীকে প্ররোচিত করে বিদেশে নিয়ে যায়। বাংলাদেশের চিকিৎসা সম্পর্কে তিনি বলেন, ৪০ শতাংশ রোগীই যায় প্রয়োজন ছাড়া। এটি বেশি দিন থাকবে না, সরকারি হাসপাতালগুলোতে এখন উপচেপড়া ভিড়। অভিযোগ আছে, চিকিৎসকরা রোগ চিহ্নিত করতে না পারায় রোগীরা বাধ্য হয়ে ভারতে যায়। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের সঠিক তথ্যের ঘাটতি রয়েছে এবং সঠিক জায়গায় না যাওয়ার কারণে তাদের এমনটি হতে পারে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে আসা ভারতের পিএসআরআই হাসপাতালের পরিচালক ডা. দিপাক শুকলা কালের কণ্ঠকে বলেন, বিশ্বমানের প্রযুক্তি ছাড়া বিশ্বমানের সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। আর ভারতের সব ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ কর্মী থাকায় দিন দিন মেডিক্যাল পর্যটক বাড়ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। ভারতের মোট মেডিক্যাল পর্যটকের মধ্যে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রায় ২২ শতাংশ।

দিপাক শুকলা আরো বলেন, মেডিক্যাল ট্যুরিজমের বর্তমান বিশ্ববাজার প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকার। আর এতে ভারতের হিস্যা বাংলাদেশের টাকায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। এ বাজারে বাংলাদেশের অবদান ২২ শতাংশ। তার মানে বাংলাদেশিরা প্রতিবছর ভারতে মেডিক্যাল ট্যুরিজমে খরচ করে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। তিনি জানান, প্রতিবছর বিশ্বে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে মেডিক্যাল টুরিজমের বাজার বাড়ছে।

তবে ভারতের মেডিক্যাল ট্যুরিজমের বাজার নিয়ে প্রফেশনাল সেবা নেটওয়ার্ক গ্র্যান্ট থর্টনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ভারতের মেডিক্যাল ট্যুরিজমের বাজার ৩০০ কোটি ডলারের। ২০২০ সালে নাগাদ এই বাজার হবে প্রায় ৮০০ কোটি ডলার। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের মেডিক্যাল ট্যুরিজম খাতে বড় অবদান রাখছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। এ দুই দেশের যৌথ অবদান ৩৪ শতাংশ। এর পাশাপাশি আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অবদান এই খাতে ৩০ শতাংশ। বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় মেডিক্যাল গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে চেন্নাই, মুম্বাই, এপি ও এনসিআর।